ইন্টারনেট সবার জন্য উম্মুক্ত, কিন্তু কোন দেশের গুরুত্তপুর্ণ তথ্য অন্য কোন দেশে শেয়ার না করার জন্য, অথবা এমন সাইটগুলো, যেগুলো দেশিয়ভাবে নিষিদ্ধ, এই ধরনের নির্দিষ্ট কিছু সাইট ব্লক করে থাকে, যাতে করে তাদের জাতীয়ভাবে কোন ক্ষতি না হয়।
অনেক দেশের পুলিশ এই নৈতিক ভুমিকা পালন করে, এবং NSFW (not safe for work) ওয়েব সাইটগুলো ব্লক করে থাকে,
অনেক দেশে যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবসাইটগুলিও ব্লক করে থাকে।
বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ ও অফিস ছাত্র এবং কর্মচারীদের বিনামুল্যে Wi-Fi সংযোগ প্রদান করে থাকে, তবে তাদের ছাত্র / কর্মীদের টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট প্রভৃতি সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট অথবা তাদের ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্লক করা থাকে না।
কিন্তু অন্য সময় কয়েকটি ওয়েবসাইট ISP (Internet Service Provider) দ্বারা ব্লক করা থাকে, অথবা কিছু দেশের সীমাবদ্ধতাগুলির কারণে হতে পারে।
আপনি যদি কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, তাহলে হতাশ হবেন না, কারণ এমন অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে, যার দ্বারা আপনি ব্লক করা ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

এই আর্টিকেলে আমি ১০ বিকল্প উপায় দেখাবো, যার দ্বারা আপনি যেকোন ওয়েবসাইট ভিসিট করতে পারবেন।
সতর্ক : দয়া করে মনে রাখবেন, যে কোন সমস্যার জন্য টেকটুকি দায়ী হবে না।

১) URL এর পরিবর্তে IP ব্যবহার করে।
ব্লক করা ওয়েবসাইটগুলি কখনো কখনো এমন হয়,
URL গুলির তালিকা (যেমন : www.siteblock.com, www.techtuki.com ইত্যাদি), URL এমন হয়,
কিছু ক্ষেত্রে URL গুলির পরিবর্তে IP ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করা যায়।  আপনার লোকাল কম্পিউটার থেকে command Prompt (Mac ব্যবহারকারীরা Terminal ব্যবহার করে) ping domain.com কমান্ড ব্যবহার করে আপনি যে কোন ওয়েবসাইটের IP বের করতে পারবেন।  অনলাইনেও এই সাইটটি www.whatsmyip.org ব্যবহার করার মাধ্যমে বের করতে পারবেন।

command prompt
command prompt

 

২) VPN ব্যবহার করে।
VPN (Virtual Proxy Network) একটি রিমোট সার্ভার, যা আপনার ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে পাবলিক নেটওয়ার্কে অ্যাক্সেস প্রদান করে।
VPN আপনাকে আপনার বাড়ি থেকে ব্লক করা ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে সক্ষম করে, সবচেয়ে মজার বিষয় হলো VPN আপনার পরিচয় গোপন রাখবে, যার কারণে আপনি যে কোন সফ্টওয়্যার ডাউনলোড় এবং ব্লক করা ওয়েব সাইটগুলি ব্যবহার করতে পারবেন আপনার দেশে বসে।
অনেক VPN আছে, কিছু (Paid) আর কিছু (Free), Paid VPN এ কোন শর্ত নেই, অর্থাৎ কোন সমস্যা ছাড়া ব্যবাহার করতে পারবেন।  আর Free VPN ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন, আর ভালোভাবে কাজ ও করে না। তাই Paid VPN ব্যবহার করাই ভালো।

 

৩) Google Cache
সার্চ ইন্জিনগুলো (Google এরং Yahoo) তে কোন কিছূ সার্চ করলে তা cache হয়, এবং cached ওয়েবপেইজগুলো সার্চ ইন্জিনে সংরক্ষিত হয়, যা সম্ভবত Block হয়ে যায়।  ‍শুধুমাত্র গুগোল সার্চ ইন্জিনে সার্চ করুন, এবং তার টাইটেল এর নিছে সবুজ URL এর শেষে ত্রিভুজ আইকনে ক্লিক করুন, এবং ‘ক্যাশ’ ক্লিক করুন,

এখানে আপনি শুধুমাত্র প্রথম পেইজটি দেখতে পারবেন, অথবা Full ওয়েবসাইটটি ব্যবহারও করতে পারেন।

 

৪) Internet Archive – Wayback Machine
Internet Archive (ইন্টারনেট সংরক্ষণাগার) অনেক বড় একটি ওয়েবসাইট। এটি যে কোন ওয়েব সাইটের সব ভার্সনের পুরাতন মেমোরি গুলো সংরক্ষণ রাখে।  এটি কোন Proxy সাইট নয়, তাই এটি ব্যান খাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই, এই ইন্টারনেট সার্ভিসটি যে কোন ওয়েবসাইটের Started থেকে শুরু করে সব কিছু সংরক্ষণ রাখে, আপনি যে কোন ওয়েবসাইটের পুরাতন ভার্সনের সব কিছু দেখতে পারবেন, এবং আপনি ব্লক করা অনলাইন ব্লক করা কন্টেন্ট গুলোও দেখতে পারবেন।
Site Link : https://archive.org/

 

৫) URL পুনরায় দেওয়ার মাধ্যমে
এই ট্রিকটি শুধু মাত্র তখন কাজ করবে, যদি সাইটগুলোর হোস্ট Dadicated Server দিয়ে হয়, এবং ডোমেইনের জন্য কোন SSL ইন্সটল করা না থাকে, এই ধরণের ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করার জন্য নিছে দুইটি ধাপ অবলম্বন করতে হবে,
তা হলো :-
১- ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে যান (যে কোন ব্রাউজারে)
২- www.websiteURL.com অথবা http://www.WebsiteURL.com টাইপ করার পরিবর্তে http://www.WebsiteURL.com টাইপ করুন।

যেহেতু ডোমেইন SSL দ্বারা Verified নয়, তাই এখানে একটি নোটিশ দেখাবে এবং Proceed anyway অথবা Back to Safety. আপনি এখানে Proceed anyway ক্লিক করবেন, তাহলে আপনি সাইটটি ভিসিট করতে পারবেন।

 

৬) Bypass with Translations services
AltaVista, BableFish অনুবাদ সার্ভিসের মত Google অনুবাদ একটি কার্যকর উপায়, যা দ্বারা আপনি ব্লক করা ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারবেন।
প্রায় সকল প্রকারের ভাষা এই টুলে সাপোর্ট করে। ‍ এটি আপনাকে একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য একটি ভাষায় অনুবাদ করতে এবং অনুবাদকৃত ভাষা নিজের পৃষ্ঠায় পদর্শন করে থাকে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা ব্লক করা সাইটগুলিতে অ্যাক্সেস পেতে পারি।

 

৭) ব্রাউজারে Proxy ব্যবহার করে।
Proxy Server একটি মধ্যবর্তি সার্ভার, যেটা আপনার পক্ষে কাজ করে, অর্থাৎ আপনার রিকোয়েষ্টে যে কোন তথ্য দিবে।  এটি আপনার পরিচয় গোপন রাখে এবং প্রায় সব ব্লক করা সাইট ব্যবহার করতে সক্ষম করে।  ‍
আপনার ব্রাউজারে URL টি লিখুন, আপনার ব্রাউজারে কিভাবে/কোথায় Proxy বসাতে হবে, নিচে দেওয়া পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করে দেখুন।

— Proxy Surfing – Firefox —

প্রথমে Option এ ক্লিক করুন।  তার পর Advance >Network > connection – Settings
তার পর Manual Proxy তে টিক দিন > Proxy দিন।।

 

৮) RSS Feed এ Subscribe করুন।
যদি ওয়েবসাইটের RSS feed থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই ব্লক সাইটগুলো RSS Reader এর মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।  আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো RSS feed কে reader এ অ্যাড করতে হবে।  তবে এটি সকল সাইটের জন্য কাজ না ও করতে পারে, কিন্তু যদি সাইটটি RSS feed অ্যাড করা থাকে, তাহলে আপনি একটি RSS reader দিয়ে এটি সাবস্ক্রাইব করতে পারবেন এবং পড়তেও পারবেন।  অথবা এটি নিয়মিত আপনার ই-মেইলে কন্টেন্ট পাঠাবে।

 

৯) Short URL ব্যবহার এর মাধ্যমে পুনরায়
কখনও কখনও আপনি URL ব্রাউজ করতে চাচ্ছেন, কিন্তু URL টি ব্লক করা, তখন ছোট URL পরিবর্তনের সাথে অন্য একটি ছোট URL রুপে রুপান্তর করে সেটিংস বাইপাস করতে সাহায্য করে থাকে।
এখানে দুইটি ছোট URL দেওয়া হলো :- MooURL এবং SnipURL

 

১০) Anonymous Surfing
বেশিরভাগ ওয়েবসাইট, বিশেষ করে সংবাদ ওয়েবসাইট কিছু দেশে সেন্সরশিপের বিষয়গুলি স্বীকার করে এবং এই দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নামহীন সার্ফিং (Anonymous Surfing) ট্যাব রয়েছে।  এই ওয়েবসাইটগুলি আপনাকে তাদের প্রক্সি বা ডোমেইনের সুবিধাগুলি বেনামি (Anonymous) হিসেবে অন্যান্য সাইটগুলিকে সার্ফ করার জন্য অনুমতি দেয়।  মনে রাখবেন, এই সুবিধা শুধুমাত্র কয়েকটি ওয়েবসাইটের জন্য প্রযোজ্য।

এই ছিলো আমার আজকের টেক, সবাই ভালো থাকবেন এই কামনাই করছি।

LEAVE A REPLY